কোর্ট ম্যারেজ সমাজে বহুল ব্যবহৃত ও চর্চিত একটি শব্দ। সাধারণ মানুষের ধারণা কোর্টে যে বিবাহ হয় সেটাই হয়তো কোর্ট ম্যারেজ। প্রশ্ন হলো কোর্ট কি বিয়ে পড়ানোর জায়গা? না, কোর্ট বিয়ে পড়ানোর কোন জায়গা নয়। বিবাহ একটি সামজিক ও ধর্মীয় বিষয়। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সামাজিক ভাবে বিবাহ শাদি অনুষ্ঠিত হবে এটাই নিয়ম। আইনে কোর্ট ম্যারেজ বলে কিছু নেই।

The Muslim Personal Law (Shariat) Application Act, 1937 এর ২ ধারার বিধান মোতাবেক মুসলিম বিবাহ ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইজাব (প্রস্তাব), কবুল এবং মোহর প্রদানের মধ্য দিয়ে বিবাহ সুসম্পন্ন হবে। The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী প্রত্যেকটি মুসলিম বিবাহ সম্পন্ন হবার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন না করলে বিবাহ অবৈধ হবে না তবে বর/স্বামী দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন মর্মে গণ্য হবে। এই হলো মোটামুটি মুসলিম বিবাহের প্রক্রিয়া। এখন প্রশ্ন হলো কোর্ট ম্যারেজ শব্দটি কেন আসলো এবং কিভাবে এত জনপ্রিয় শব্দ হলো?
আমাদের সমাজে প্রায়শই দেখা যায় প্রাপ্ত বয়স্ক বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই বিবাহ করতে উদ্যোগী হয়। অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহ করায় কন্যার পরিবার বিবাহ মেনে নিতে চায় না এবং বরকে নানাবিধ মামলা মোকদ্দমায় ফেলার চেষ্টা করেন। এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করে বর-কনে দ্বারস্থ হন কোর্টের পাশে অবস্থিত নোটারি পাব্লিকের। সেখানে গিয়ে এফিডেফিট করেন এই মর্মে যে, আমরা সাবালক। আমরা স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, বিনা প্ররোচনায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। এফিডেফিট বলতে মূলত বুঝায় কিছু ঘোষণা করা। এর মাধ্যমে আইনানুগ ভাবে অনেক কিছুই ঘোষণা করা যায় কিন্তু বিবাহ করা যায় না। আইনের দৃষ্টিতে এফিডেফিট মূলে বিবাহ কোন বিবাহই নয়। জনগণ সাধারণত এটাকেই কোর্ট ম্যারেজ বলে প্রচার করে থাকে। অনেকের কাছে মনে হতে পারে ম্যারেজের সাথে যেহেতু কোর্ট শব্দটি আছে, সেহেতু এই বিবাহ মনে হয় বেশি শক্তিশালী । বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে অনেক মেয়ে সরল বিশ্বাসে এফিডেফিটকে বিবাহের প্রকৃত ডকুমেন্ট মনে করে অনেক বড় প্রতারণার শিকার হচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।
বিবাহের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন শুধুমাত্র একটি এফিডেভিট দিয়ে সম্পন্ন হয় না। সঠিক ধর্মীয় ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিবাহ সম্পন্ন করুন এবং তা যথাযথভাবে রেজিস্ট্রি করিয়ে নিন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
সঠিক আইন জানুন, সুন্দর জীবন গড়ুন।
