জমির পরিমাপ ও একক

আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি সহ জমির পরিমাপ ও একক বিষয়ে বিস্তারিত জানুন-

বাংলাদেশে জমি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রচলিত একক এবং তাদের আনুমানিক রূপান্তর নিচে দেওয়া হলো। তবে মনে রাখতে হবে, কিছু একক অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজে ডেসিমেল/শতাংশ, কাঠা, বিঘা ও একর এই পরিমাপগুলো সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত।

  • শতাংশ/ডেসিমেল/শতক:
    • ১ শতাংশ = ১ ডেসিমেল = ১ শতক
    • ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট (প্রায়)
    • ১ শতাংশ = ৪০.৪৬ বর্গমিটার (প্রায়)
    • ১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ (প্রায়)
    • ১ শতাংশ = ১৯৪.৬০ বর্গহাত (প্রায়)
    • ১ শতাংশ = ১০০০ বর্গলিঙ্ক
  • কাঠা:
    • ১ কাঠা = ১৬ ছটাক
    • ১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ (সরকারি হিসাব)
    • তবে, বিভিন্ন অঞ্চলে কাঠার পরিমাপ ভিন্ন হতে পারে। যেমন:
      • ঢাকা ও এর আশেপাশে ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
      • উত্তরাঞ্চলে ১ কাঠা = ১৬২০ বর্গফুট (এটি ৩০ বা ৩৫ শতাংশে বিঘা ধরা হলে হয়)
    • ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট (সাধারণত প্রচলিত)
    • ১ কাঠা = ৮০.১৬ বর্গগজ (প্রায়)
    • ১ কাঠা = ১৬৫ অযুতাংশ
  • বিঘা:
    • ১ বিঘা = ২০ কাঠা (এটি সর্বজনীনভাবে প্রচলিত)
    • ১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ (সরকারি হিসাব)
    • তবে, বাংলাদেশে কিছু অঞ্চলে ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা, আবার কোথাও ৩০ শতাংশে ১ বিঘা ধরা হয়।
    • ১ বিঘা = ১৪,৪০০ বর্গফুট (সাধারণত প্রচলিত, যদি ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট হয়)
    • ১ বিঘা = ১৬০০ বর্গগজ
    • ১ বিঘা = ৩৩,০০০ বর্গলিঙ্ক
    • ১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত (৮০ হাত × ৮০ হাত)
  • একর:
    • ১ একর = ১০০ শতাংশ
    • ১ একর = ৬০.৫০ কাঠা (প্রায়)
    • ১ একর = ৩.০৩ বিঘা (প্রায়)
    • ১ একর = ৪৩৫৬০ বর্গফুট
    • ১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ
    • ১ একর = ৪০৪৬ বর্গমিটার
    • ১ একর = ১০০,০০০ বর্গলিঙ্ক
  • হেক্টর:
    • ১ হেক্টর = ২.৪৭ একর (প্রায়)
    • ১ হেক্টর = ১০,০০০ বর্গমিটার
    • ১ হেক্টর = ৭.৪৭ বিঘা (প্রায়)
  • কানি ও গণ্ডা:
    • এই এককগুলো মূলত নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ইত্যাদি অঞ্চলে ব্যবহৃত হয় এবং এর পরিমাণ অঞ্চলভেদে অনেক ভিন্ন হয়।
    • কাচ্চা কানি: ৪০ শতকে ১ কানি ধরা হয়।
    • সাই কানি: কোথাও ১২০ শতকে, আবার কোথাও ১৬০ শতকে সাই কানি ধরা হয়।
    • সাধারণত, ১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট (৮ হাত নল মাপে)
    • ১ কানি = ২০ গণ্ডা
    • ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
    • ১ কড়া = ৩ ক্রান্তি
    • ১ ক্রান্তি = ২০ তিল

আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল এর ব্যবহার

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পূর্ব পর্যন্ত প্রস্তুতকৃত খতিয়ানসমূহ যথা- সি,এস ও এস, এ খতিয়ানে একাধিক ভূমি মালিকের নাম থাকলে খতিয়ানে মোট জমিতে কোন মালিকের কতটুকু হিস্যা বা অংশ আছে তা আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হতো। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে , গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল এর পরিবর্তে খতিয়ানের মোট জমিতে কার কত অংশ জমি আছে তা বুঝাতে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন- ০.২৫০, ০.৩৫০, ০.৪০০ ইত্যাদি। সি,এস খতিয়ানে “অত্র স্বত্বের বিবরণ ও দখলকার” ঘরে ব্যক্তির নাম এবং নামের ডানদিকে “অংশ” ঘরে ব্যক্তির মালিকানাধীন মোট জমির পরিমাণ আনা, গন্ডা, কড়া, ক্রান্তি ও তিল চিহ্ন দ্বারা লেখা থাকে। তাই খতিয়ানে কোন ব্যক্তি কতটুকু সম্পত্তির মালিক তা বের করতে এই চিহ্নসমূহ জানা প্রয়োজন।

  • —-খতিয়ানের মোট জমিকে ১৬ আনা ধরা হয়। আনার চিহ্ন নিম্নরূপ-
  • ⁄ = ১ আনা
  • ৵ = ২ আনা
  • ৶ = ৩ আনা
  • ৷ = ৪ আনা
  • ৷⁄ = ৫ আনা
  • ৷৵ = ৬ আনা
  • ৷৶ = ৭ আনা
  • ৷৷ = ৮ আনা
  • ৷৷⁄ = ৯ আনা
  • ৷৷৵ = ১০ আনা
  • ৷৷৶ = ১১ আনা
  • ৸ = ১২ আনা
  • ৸ ⁄ = ১৩ আনা
  • ৸৵ = ১৪ আনা
  • ৸৶ = ১৫ আনা
  • ১্= ১৬ আনা
  • —গণ্ডাকে ১, ২, ৩, ৪…. এভাবে প্রকাশ করা হয়।
  • ১ = ১ গণ্ডা
  • ২ = ২ গণ্ডা
  • ৩ = ৩ গণ্ডা
  • ৪ = ৪ গণ্ডা
  • ৫ = ৫ গণ্ডা
  • ৬ = ৬ গণ্ডা
  • ৭ = ৭ গণ্ডা
  • ৮ = ৮ গণ্ডা
  • ৯ = ৯ গণ্ডা
  • ১০ = ১০ গণ্ডা
  • ১১ = ১১ গণ্ডা
  • ১২ = ১২ গণ্ডা
  • ১৩ = ১৩ গণ্ডা
  • ১৪ = ১৪ গণ্ডা
  • ১৫ = ১৫ গণ্ডা
  • ১৬ = ১৬ গণ্ডা
  • ১৭ = ১৭ গণ্ডা
  • ১৮ = ১৮ গণ্ডা
  • ১৯ = ১৯ গণ্ডা
  • *২০ গন্ডায় ১ আনা।
  • —কড়ার চিহ্ন নিম্নরূপ:
  • ৷ = ১ কড়া
  • ৷৷ = ২ কড়া
  • ৸ = ৩ কড়া
  • *৪ কড়ায় ১ গন্ডা।
  • –ক্রান্তির চিহ্ন নিম্নরূপ:
  • ৴ = ১ ক্রান্তি
  • ৴৴ = ২ ক্রান্তি
  • *৩ ক্রান্তিতে ১ কড়া।
  • —তিলের আলাদা কোন চিহ্ন নাই। তিলকে ১, ২, ৩, ৪…. এভাবে প্রকাশ করা হয়।
  • ১ = ১ তিল
  • ২ = ২ তিল
  • ৩ = ৩ তিল
  • ৪ = ৪ তিল
  • ৫ = ৫ তিল
  • ৬ = ৬ তিল
  • ৭ = ৭ তিল
  • ৮ = ৮ তিল
  • ৯ = ৯ তিল
  • ১০ = ১০ তিল
  • ১১ = ১১ তিল
  • ১২ = ১২ তিল
  • ১৩ = ১৩ তিল
  • ১৪ = ১৪ তিল
  • ১৫ = ১৫ তিল
  • ১৬ = ১৬ তিল
  • ১৭ = ১৭ তিল
  • ১৮ = ১৮ তিল
  • ১৯ = ১৯ তিল
  • *২০ তিলে ১ ক্রান্তি।
  • —আনা-গন্ডা-কড়া-ক্রান্তি ও তিলের পারস্পরিক তুলনা-
  • ⁄ (১ আনা) = ২০ গণ্ডা
  • ১ গণ্ডা = ৪ কড়া
  • ৷ (১ কড়া) = ৩ ক্রান্তি
  • ৴ (১ ক্রান্তি) = ২০ তিল
  • —খতিয়ানে যতটুকু জমি থাক না কেন, ১ (ষোল আনা) বলতে খতিয়ানের সম্পূর্ণ জমিকে বুঝায়।
  • ১ (ষোল আনা) = ৩২০ গন্ডা (যেহেতু ২০ গন্ডায় ⁄এক আনা)
  • ১ (ষোল আনা) = ১২৮০ কড়া (যেহেতু ৪ কড়ায় এক গন্ডা)
  • ১ (ষোল আনা) = ৩৮৪০ ক্রান্তি (তিন ক্রান্তিতে ।এক কড়া)
  • ১ (ষোল আনা) = ৭৬৮০০ তিল (২০ তিলে ৴এক ক্রান্তি)
  • —কোন কোন এলাকায় জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে আনা-গন্ডা-কড়া-ক্রান্তি-তিল ব্যবহার করা হয়।
  • ⁄ (এক আনা) = ১৭,২৮০ বর্গফুট
  • ১ গণ্ডা = ৮৬৪ বর্গফুট
  • ১ কড়া = ২১৬ বর্গফুট
  • ৴ (১ ক্রান্তি) = ৭২ বর্গফুট
  • ৷ (১ তিল) =৩.৬ বর্গফুট

কিছু জরুরি বিষয়:

  • দলিল: জমির দলিল বা “দলিল”-এ সাধারণত কাঠা ও বিঘা উল্লেখ থাকে, বিশেষ করে পুরনো নথিপত্রে।
  • আঞ্চলিক ভিন্নতা: বাংলাদেশে জমি পরিমাপের এককগুলো অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই জমি কেনার বা বিক্রির আগে স্থানীয় প্রচলিত মাপ সম্পর্কে জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • সরকারি পরিমাপ: সরকারিভাবে জমির মাপের ক্ষেত্রে একর ও শতাংশ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

জমি পরিমাপের এই এককগুলো জানা থাকলে জমি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেন বা হিসাব কষা অনেক সহজ হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *