একতরফা ভাবে পারিবারিক মামলায় রায়-ডিক্রি হয়ে গেছে এখন করণীয় কী?

হঠাৎ জানতে পারলেন আপনার স্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা করে একতরফা ভাবে রায় ডিক্রি পেয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে আদালত হতে গ্রেফতারি পরওয়ানা ইস্যু হয়েছে। এখন আপনার করণীয় কী? বিস্তারিত জানুন-

কুলসুম বিবি তার বকেয়া মোহরানা ও ভরণপোষণের দাবিতে তার স্বামী আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আব্দুল কাদের সেই মামলায় আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে একতরফা ভাবে রায় ডিক্রি হয়েছে। বিবাদী করিম ডিক্রিকৃত টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করায় এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে গ্রফতারি পরোয়ানা ইস্যু হয় এবং পুলিশ তাকে ধরে আনে। বিবাদী করিম তখন জানায় তিনি মামলার বিষয়ে জানতেন না। কুলসুম বিবির সাথে তার তালাক হয়ে গেছে।

এমন ঘটনা আমাদের সমাজে প্রায়শই ঘটতে দেখা যায়। পারিবারিক মামলায় কারো বিরুদ্ধে একতরফা ভাবে রায় ডিক্রি হয়ে গেলে করণীয় কি আমরা আজকের লেখায় সেটিই জানার চেষ্টা করবো।

পারিবারিক মামলায় একতরফা রায় ডিক্রি হলে আপনি সেই একরফা রায় ডিক্রির বিরুদ্ধে ২ টি প্রতিকার রয়েছে-

১) ছানী মোকদ্দমা দায়ের;

২) আপীল দায়ের।

দুটো প্রতিকারই আলোচনা করা হলো-

 ১) ছানী মোকদ্দমা দায়ের: বিবাদীর অনুপস্থিতির কারণে একতরফা রায় ডিক্রি হলে যে আদালত রায় ডিক্রি প্রদান করেছে সেই আদালতে উক্ত রায় ডিক্রি বাতিল করে মূল মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ প্রার্থনা করা যায়। দরখাস্ত দাখিল করে এই প্রার্থনা করতে হয়। আদালতে এই দরখাস্ত দাখিল হলে সেটিকে পারিবারিক ছানি বা পারিবারিক মিস মামলা হিসেবে গণ্য করা হয়। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১০(৬) ধারা অনুযায়ী রায় ডিক্রি হবার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে অনুপস্থিতির কারণ উল্লেখ করে দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। তবে কোন কারণে ৩০ দিন অতিবাহিত হলে দরখাস্তে বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে তামাদি আইনের ৫ ধারা মোতাবেক বিলম্ব মওকূফ চাইতে হয়। মূল দরখাস্তে উল্লেখ না করলে বিলম্ব মওকূফের জন্য পৃথক দরখাস্তও দেয়া যায়। 

দরখাস্ত বিবেচনা করে আদালতের নিকট যদি মনে হয় মূল মামলায় ধার্য তারিখে উপস্থিত হতে না পারার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিলো তাহলে আদালত উপযুক্ত খরচা দাখিলের শর্তে বা অন্য কোন শর্তে মূল মামলার রায় ডিক্রি বাতিল করতে পারেন এবং বিবাদীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ প্রদান করতে পারেন।

২। আপীল দায়ের: একতরফা রায় ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৮ ধারা অনুযায়ী জেলা জজ আদালত ‘পারিবারিক আপীল আদালত’ হিসেবে গণ্য হয়। মামলার রায় ডিক্রি হবার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করতে হয়। তবে রায় ডিক্রির নকল সংগ্রহ করতে যে সময় ব্যয় হবে তা এই ৩০ দিন থেকে বাদ দিয়ে গণনা করতে হবে। পারিবারিক আপীল আদালত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জেলা জজ আদালত আপীল নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত জেলা জজ এবং যগ্ম জেলাজজ আদালতে প্রেরণ করতে পারবেন।

কোথায় যাবেন এবং কী করবেনঃ একতরফা মামলায় রায় ডিক্রি হবার পর বিবাদী/দেনদার গ্রেফাতার হলে উক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের প্রথম করণীয় হলো একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর শরণাপন্ন হওয়া এবং রায়-ডিক্রির নকল তোলা। রায় ডিক্রির নকল তোলার পর অনতিবিলম্বে ছানী মোকদ্দমা বা আপীল দায়ের করতে হবে এবং মুক্তির (Release) জন্য আবেদন করতে হবে। দেনদার (বিবাদী) যদি আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল হন তাহলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারেন। দেনদার জেল হাজতে বন্দী থাকলে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করা হলে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস উক্ত ব্যক্তির জন্য আইনজীবী নিয়োগ সহ মামলা পরিচালনার যাবতীয় খরচ বহন করবেন।

লিগ্যাল এইড বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন https://ainjanun.com/legalaid-binamulle-aini-sheba/

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *