স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ: আইন কী বলে?
একজন মুসলিম পুরুষ শরিয়া অনুযায়ী চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারলেও বাংলাদেশে প্রচলিত আইন এক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করেছে। অনেক সময় অজ্ঞতার কারণে পুরুষেরা দ্বিতীয় বিবাহ করে আইনগত জটিলতায় পড়েন। এই আর্টিকেলে আমরা স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহের আইনি ফলাফল, অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং এর শাস্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

শরিয়া ও বাংলাদেশের আইন: তুলনামূলক আলোচনা
শরিয়া অনুযায়ী: ইসলামী শরিয়া একজন মুসলিম পুরুষকে একই সময়ে অনূর্ধ্ব চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতি দেয়। শরিয়ার বিধিবিধান অনুযায়ী, পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করা হলে তাদের মধ্যে সুবিচার ও সমতা নিশ্চিত করার ওপর ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী: বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী দ্বিতীয় বিবাহ করার ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে তা অবৈধ হবে না, কিন্তু স্বামীর এই কাজটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৬ ধারায় দ্বিতীয় বিবাহের জন্য অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে:
- আবেদন: যদি কোনো স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করতে আগ্রহী হন, তবে তাকে দ্বিতীয় বিবাহের কারণ এবং পূর্ববর্তী স্ত্রীর সম্মতি আছে কি না, তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
- ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় হলে চেয়ারম্যান বরাবর।
- পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হলে মেয়র বরাবর।
- ক্যান্টনমেন্ট এরিয়া হলে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার বরাবর।
- সালিশি পরিষদ গঠন: আবেদনের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান/মেয়র/ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার একটি সালিশি পরিষদ গঠন করবেন। সালিশি পরিষদ গঠিত হবে ৩ জন সদস্য- চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে। কোন একটি পক্ষ প্রতিনিধি মনোনীত না করলে তাকে ছাড়াই সালিশি পরিষদ গঠিত হতে পারে।
- অনুমতি প্রদান: এই সালিশি পরিষদ বিবাহটি প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অনুমতি প্রদান করতে পারে। এক্ষেত্রে সালিশি পরিষদ চাইলে শর্তসাপেক্ষেও অনুমতি দিতে পারে।
- সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা (রিভিশন): সালিশি পরিষদের সিদ্ধান্তে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে, স্থানীয় এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার (Revision) জন্য আবেদন করা যাবে। এই রিভিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহের শাস্তি
সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।
- শাস্তি: অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
- মোহরানা পরিশোধ: এছাড়াও, পূর্ববর্তী স্ত্রীর মোহরানার কোনো অংশ বকেয়া থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সেই বকেয়া মোহরানা বকেয়া ভূমি কর আদায়ের মতোই আদায় করা যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
দ্বিতীয় বিবাহ করার আগে আইনগত দিকগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো ভুল পদক্ষেপ আপনার জন্য আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। যদি আপনার মনে কোনো প্রশ্ন থাকে বা আইনি পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তবে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন অথবা অভিজ্ঞ কোন আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
তালাক প্রদানের সঠিক নিয়ম জানতে ভিজিট করুন https://ainjanun.com/talak-diben-kivabe/