তালাক দিবেন কিভাবে?

দৃষ্টি আকর্ষণ- এই লেখাটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশীদের জন্য প্রযোজ্য।

ইসলাম ধর্মে তালাককে নিকৃষ্ট জায়েজ কাজ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে নিকৃষ্ট অথচ জায়েজ দুটি কাজ হলো- ১) স্ত্রীকে তালাক প্রদান, ২) ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ । তবে কিছু পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক অপরিহার্য হয়ে পরে। বাংলাদেশে তালাক প্রদানের প্রচলিত আইন কানুন বিষয়ে এই লেখায় আমরা জানার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ই তালাক প্রদান করতে পারেন। স্ত্রীদের তালাক প্রদানের ক্ষমতা অবারিত নয়। বিবাহের সময় স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করেন তাহলে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবেন। এই ধরণের তালাক কে বলা হয় তালক-ই-তাওফিজ। নিকাহনামা যেটাকে আমরা কাবিননামাও বলে থাকি সেটির ১৮ নং অনুচ্ছেদে বলা থাকে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করছেন কি না, করলে কি কি শর্তে স্ত্রী তালাক দিতে পারবেন তা উল্লেখ করতে হয়। তালাক-ই- তাওফিজ ছাড়াও The Dissolution of Muslim Marriages Act, 1939 এ বর্ণিত কারণসমূহে একজন স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে তালাক পেতে পারেন।

এখন আসুন তালাক প্রদানের প্রক্রিয়াটা জানি-

The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৭ ধারায় তালাকের প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে কোন ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করতে চায় তাহলে প্রথমে তালাক ঘোষণা করতে হবে এবং তালাকের নোটিশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর প্রদান করতে হবে। নোটিশের একটি কপি স্ত্রী বরাবর প্রদান করবেন। নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নোটিশের ফর্মেট রয়েছে। স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে গেলে তিনি নোটিশ প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নিকাহ রেজিস্ট্রারকে সমাজে সরকারি কাজী বলে অনেকে চিনে থাকেন।  

উক্ত নোটিশের কপি ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক রিসিভ হবার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে তিনি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর অভিপ্রায়ে একটি সালিসী পরিষদ গঠন করবেন এবং পুনর্মিলনের চেষ্টা করবেন। সালিসী পরিষদ যদি ব্যর্থ হয় এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন না হয় তাহলে তালাকটি কার্যকর হয়ে যাবে। তবে স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকেন তাহলে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। তালাক কার্যকর হবার পূর্বে স্বামী যেকোন সময় তালাকটি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।

স্ত্রী যদি তালাক প্রদান করতে চান তাহলে তাকেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। স্বামী বা স্ত্রী উভয়কেই নোটিশ প্রদানের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। নোটিশ প্রদান না করা হলে সেটিকে ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য করা হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দন্ডিত হতে পারেন। নোটিশ প্রদান করা না হলে বা স্বামী/স্ত্রী তালাকের নোটিশের কপি না পেলে তালাক কার্যকর হবে কি না- একটি প্রশ্ন থেকে যায়। এই প্রশ্নে এখনও কিছু ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে শরীয়া আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদান কোন আবশ্যক বিষয় নয়। উচ্চ আদালতের অধিকাংশ নজীর অনুযায়ী নোটিশ প্রদান না করা হলেও তালাক কার্যকর হবে। 

অনেক সময় দেখা যায় অনেকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট না গিয়ে নোটারি পাবলিকে গিয়ে এফিডেফিটেরর মাধ্যমে তালাক ঘোষণা করে থাকেন, এটি আইন সম্মত নয়।

আসুন সঠিক আইন জানি, আইন মানি এবং সুন্দর জীবন গড়ি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *